অশরীরী
সুমিত মুখার্জী
সেদিন ছিল পূর্ণিমার রাত...
কারেন্ট নাই,প্রচন্ড গরমে শরীর অস্থির করছে
তাই জানালা দিয়ে চাঁদের আলোর দিকে এক দৃষ্টিতে তাকিয়ে রয়েছি ...।
চাঁদে ঠিক যেনো সেদিন কোন এক অজানা রহস্য লুকিয়ে ছিল ...
কিছুক্ষণ পড়ে আমার চোখ গিয়ে পড়লো আমাদের বাগানের নিম গাছের পিছনে দাঁড়িয়ে কে যেন আমার দিকে তাকিয়ে মিষ্টি করে হাসলো...।
আমি খেয়াল করতেই লুকিয়ে পড়লো...।
বাড়িতে আবার কেউ ছিলো না আমি একাই ছিলাম আমার পরীক্ষা তাই পড়া মুখস্ত করছিলাম ...।
কারেন্ট আসার পর বিছানায় বই নিয়ে পড়তে গেলাম ।
তখনই,দরজার কলিং বেলের শব্দ...।
দরজা খুলতে আমি অবাক ...হুবুহু ঠিক যেনো আমি আমার সামনে দাঁড়িয়ে রয়েছি...।
সাহস করে তাকে জিজ্ঞেস করতেই সে এক রহস্য হাসি দিয়ে অদৃশ্য হয়ে গেলো...।
চার দিকে নীরবতা ... তখনই নীরব তার বুক চিরে ভেসে আসলো এক কর্কশ কন্ঠ স্বর ...।
এক গলা ভাঙ্গা হাসি হেসে সে বলে উঠলো...।
আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি সুমিত ...
তুমি আমাকে এভাবে ছেড়ে চলে যেতে পারবে না ...
আমি অনেক কষ্টে রয়েছি, আমার কাছে চলে এসো
আমি তোমাকে সঙ্গে নিয়ে যেতে এসেছি, চলে এসো আমার কাছে...।
আমাকে তোমার খুব পছন্দ হয়েছে ...
তুমি বিশ্বাস করো আমি সত্যিই খুব ভালোবাসি তোমাকে...
এসব কথা আমার কানে ভাসতে লাগলো...
আমি আয়নার কাছে এগোতে গিয়ে দেখি কি কোন কালো ছায়া আমার পিছনে দাঁড়িয়ে রয়েছে কি ভয়ঙ্কর তার চেহারা...।
আমি মনে মনে বিশ্বাস করি, ভূত বলে কিছু হয় না এই পৃথিবীতে আজ নিজের
চোখের দেখা কেও বিশ্বাস করতে পাচ্ছি না...
পূর্ণিমা রাতে জানালায় বসতে নেই বিশ্বাস করতাম না কোনদিন ...
এই রাতে সবাই বলে দুষ্ট আত্মারা নাকি ফিরে আসে ...
আমি সত্যিই কি তাহলে কোন দুষ্ট আত্মার কবলে পড়লাম...।
হ্যাঁ সত্যি...
এখন কি আমি বাঁচতে পারবো না?
সত্যি আমায় সঙ্গে করে নিয়ে যাবে...।
ঘর থেকে বাইরে যাওয়া উপায় ও বন্ধ কারন সে সব ঘরের দরজা বন্ধ করে দিয়েছে...।
এখনো পর্যন্ত আমার কানে ভাসতে সুমিত আমি তোমাকে খুব ভালোবাসি...।
আমি বাড়ির টেলিফোন- ফোন সবকিছু দিয়ে বাড়ির সবার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করতে লাগলাম ...
কিন্ত পারলাম না...
আর ওই খানে জ্ঞান হারালাম...
জ্ঞান ফিরতেই আমি লক্ষ্য করি আমি হসপিটালের বিছানায় শুয়ে আছি...।
আমাকে ঘিরে আমার পরিবার ও বন্ধুবান্ধব রয়েছে...
তারা আমাকে অর্ধ মৃত অবস্থায় আমার ঘর থেকে হসপিটাল নিয়ে এসেছিলো ...
আমি সুস্থ হওয়ার পর আমার পরিবার ও বন্ধুবান্ধবদের সমস্ত কিছু বলি ...
এবং তারপরে তারা একটা হুজুরের শরণাপন্ন হোলেন আর সে বললো আমি আসলে এক দুষ্ট আত্মার কবলে পড়েছি...।
আমি সেদিন পূর্ণিমার রাতে জানালায় বসেছিলাম তাই তখন সেই দুষ্ট আত্মার নজর আমার ওপর পড়েছিল
কারণ এই সময় এসব দুষ্ট আত্মার শক্তি বৃদ্ধি পায়...।।
সে তখন দুর্বল মানুষের ক্ষতি করে ...।
হুজুরের কারণে আমি সেই যাত্রায় বেঁচে যাই...
সমাপ্তি
জন পড়েছেন

Post a Comment