বিজেপির মিছিলে ইট বৃষ্টি, পুলিশ ও বিজেপি কর্মীদের খন্ড যুদ্ধে ধুন্ধুমার বসিরহাটে

বিজেপির মিছিলে ইট বৃষ্টি, পুলিশ ও বিজেপি কর্মীদের খন্ড যুদ্ধে ধুন্ধুমার বসিরহাটে




ইছামতি সংবাদ, বসিরহাট, ১৩ ফেব্রুয়ারি : সন্দেশখালীর ঘটনার প্রতিবাদে ও শাহজাহান শেখের গ্রেপ্তারের দাবিতে মঙ্গলবার বসিরহাটে বিজেপির এসপি অফিস ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়। চলে ইট-বৃষ্টি ও পুলিশের লাঠিচার্জ। ইটের ঘায়ে বিজেপি রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদারের দেহরক্ষী সহ পুলিশের লাঠির ঘায়ে আহত হন একাধিক বিজেপি কর্মী। এই ঘটনায় পুলিশের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগে রাস্তায় বসে বিক্ষোভ দেখান বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। বিজেপি কর্মীদের ভিতর থেকে ইট ছোরা হয়েছে বলে অভিযোগ তোলেন ডিআইজি বারাসাত রূপেশ কুমার।



          সন্দেশখালি ফেরার তৃণমূল নেতা শাজাহান শেখের বিরুদ্ধে নারী নির্যাতনের অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে মহিলাদের আন্দোলন সংঘটিত করার পিছনে বিজেপি নেতা বিকাশ সিংয়ের উস্কানি রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে বিকাশ সিংহকে গ্রেপ্তার করায়, কঠোরভাবে প্রতিবাদে নামেন বিজেপি কর্মীরা। তারই প্রতিবাদে মঙ্গলবার বসিরহাট পুলিশ জেলার এসপি অফিস ঘেরাও কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল বিজেপির বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার পক্ষ থেকে। এদিন বিজেপির প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। এদিন সকালে বসিরহাটের কর্মসূচিতে যোগ দিতে আসার পথে তাকে আটকানো হতে পারে এই আশঙ্কায় কলকাতা থেকে রওনা হওয়ার পর হৃদয়পুর স্টেশন থেকেই ট্রেনে চাপেন সুকান্ত মজুমদার। শিয়ালদা হাসনাবাদ লোকালে করে বসিরহাট স্টেশনে এসে নামেন তিনি। তারপর সেখান থেকে তাকে রিসিভ করে বসিরহাটের এস এন মজুমদার রোড ধরে টাউন হল সংলগ্ন জেলা পার্টি অফিসের সামনে আনা হয় রাজ্য সভাপতিকে। সুকান্ত মজুমদার উপস্থিত হতেই শুরু হয় বিজেপির মিছিল। ইটিন্ডা রোড ধরে বসিরহাট ইছামতি সেতুর উপর দিয়ে সংগ্রামপুর বসিরহাট এসপি অফিসের সামনে পৌঁছায় বিজেপির মিছিল। বিজেপি কর্মীদের মিছিল সংগ্রামপুর মোড়ে পৌঁছাতেই ব্যারিকেট করে তাদের আটকানোর চেষ্টা করে পুলিশ। বিজেপির মিছিল আটকাতে পরপর দুটি ব্যারিকেডে জমায়েত করা হয়েছিল বিশাল পুলিশ বাহিনী। প্রথম ব্যারিকেড ভাঙতে সক্ষম হলেও পুলিশের প্রতিরোধের মুখে পড়ে দ্বিতীয় ব্যারিকেট পর্যন্ত পৌঁছাতেই পারিননি বিজেপি কর্মীরা। পুলিশ ও বিজেপি কর্মীদের ধস্তাধস্তির মধ্যেই বিজেপি কর্মীদের হটাতে লাঠিচার্জ শুরু করে পুলিশ। এর পরেই শুরু হয় ইট বৃষ্টি। স্থানীয় বাজারের যে সমস্ত দোকান রয়েছে তার ছাদ থেকেই ছুটে আসতে থাকে ইট ও পাথর। ইটের আঘাতে জখম হন সুকান্ত মজুমদারের এক দেহরক্ষী। এছাড়াও পুলিশের লাঠির আঘাতে  জখম হয়েছেন  একাধিক বিজেপি কর্মী। এরই মাঝে পুলিশের বিরুদ্ধে চক্রান্তের অভিযোগ তুলে পথে বসে বিক্ষোভ দেখাতে শুরু করেন বিজেপির রাজ্য সভাপতি সুকান্ত মজুমদার। আনুমানিক ৭ থেকে ৮ জন বিজেপি কর্মীকে বসিরহাট জেলা হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে বলে জানান তিনি।

             মঙ্গলবার বিজেপির এসপি অফিস ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ধুন্ধুমার হয়ে ওঠার বিষয়ে কথা বললে সুকান্ত মজুমদার বলেন, 'আমরা আমাদের কর্মসূচির বিষয়ে আগেই পুলিশকে ইনফর্ম করেছি, এমনকি আমাদের কর্মসূচিকে কালিমা লিপ্ত করতে তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা বাইরে থেকে ইট ছুরতে পারে এমন আশঙ্কা জানিয়েও এসপিকে ফোন করেছি যাতে দোকানের ছাদের উপর থেকে নজরদারি চালায় পুলিশ। কিন্তু তারপরেও পুলিশ কোন ব্যবস্থা নেয়নি নজরদারির বিষয়ে। আমাদের ধারণা তৃণমূলের দুষ্কৃতীরা আর পুলিশের চক্রান্তে ইট ছোড়া হয়েছে প্ররোচনা দিতে'।

            বিজেপির মিছিলে লাঠি চালানোর বিষয় নিয়ে কথা বললে বিজেপির মিছিল থেকেই আগে ইট ছোড়া হয়েছে বলে সাংবাদিকদের প্রশ্নের মুখে জবাব দেন ডিআইজি বারাসাত রুপেশ কুমার।

জন পড়েছেন

0/Post a Comment/Comments

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন