এস পি অফিস ঘেরাওকে কেন্দ্র করে তুলকালাম বসিরহাটে, আন্দোলনে এস এফ আই

এস পি অফিস ঘেরাওকে কেন্দ্র করে তুলকালাম বসিরহাটে, আন্দোলনে এস এফ আই



ইছামতি সংবাদ, বসিরহাট, ২ মার্চ : শেখ শাজাহানের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে শনিবার বসিরহাট এস পি অফিস ঘেরাওকে কেন্দ্র করে তৈরী হয় তুলকালাম পরিস্থিতি। নেতৃত্ব দেন ডিওয়াইএফআই রাজ্য সম্পাদক মীনাক্ষী মুখার্জি। জেলা পুলিশ সুপারের অফিসের আগেই ব্যারিকেড ভাঙলেন ডিওয়াইএফআই কর্মীরা। রাস্তায় বসে বসে বিক্ষোভ দেখালেন বামপন্থী ছাত্র যুব সংগঠনের সদস্যরা। অবশেষে আন্দোলনকারীদের পক্ষ থেকে ডেপুটেশন পত্রও জমা দেওয়া হয় জেলা পুলিশ সুপারের দফতরে। 

         সন্দেশখালির  ঘটনার মূল অভিযুক্ত তৃণমূল নেতা গ্রেফতারের ঘটনায় শাজাহান শেখের বিরুদ্ধে কঠোর শাস্তির দাবিতে শনিবার বসিরহাট পুলিশ সুপারের অফিস ঘেরাওয়ের ডাক দেওয়া হয়েছিল বামপন্থী ছাত্র সংগঠন ডিওয়াইএফ এর পক্ষ থেকে। মিছিলে নেতৃত্ব দেন ডিওয়াইএফআই রাজ্য সম্পাদক মীনাক্ষী মুখার্জি, ছাত্রনেতা দিপশিতা ধর, ময়ূখ বিশ্বাস প্রমুখ। এদিন দুপুরে বসিরহাট টাউন হল মাঠ থেকে মিছিল করে ইটিন্ডা রোড ধরে ইছামতি সেতু পেরিয়ে সংগ্রামপুরে পুলিশ সুপারের অফিসে সামনে হাজির হন বামপন্থী ছাত্র যুব সংগঠনের এই মিছিল। বামেদের ঘেরাও কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা করা হয়েছিল পুলিশে পক্ষ থেকে। সুপারের অফিসের সামনে বাশের ব্যারিকেট ছাড়াও সেতু পেরিয়ে তিন রাস্তার মুখে মহিলা পুলিশের দল মিছিলের পথ আটকায়। পুলিশের ব্যারিকেড ভেঙে বাশের ব্যারিকেড টপকাতে গেলে পুলিশের সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ধস্তাধস্তি হয়। পুলিশ ও আন্দোলনকারীদের ঠেলাঠেলির মধ্যে এলাকার পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে ওঠে। বিক্ষোভকারীরা রাস্তার উপরে বসে পড়েন। সেখানেই বক্তব্য রাখতে শুরু হয়। বিক্ষোভের জেরে অবরুদ্ধ হয়ে পড়ে বসিরহাট সংগ্রামপুর রোড। ব্যাপক যানজট তৈরি হয়। বাম ছাত্র যুব নেতৃত্বের অভিযোগ, শেখ শাজাহানকে গ্রেফতারের নামে পুলিশ নির্লজ্জ ভূমিকা নিয়েছে। একজন অপরাধীর সঙ্গে পুলিশের যে সম্পর্ক হওয়া উচিত পুলিশ তা না করে জামাই আদর আদরে শেখ শাজাহানকে আদালতে নিয়ে গেছেন। একজন অভিযুক্ত হাত কড়া দূরে থাক তার হাত ধরতেও পুলিশ প্রয়োজন মনে করেনি। যেভাবে একজন খুন, ধর্ষণে অভিযুক্ত অপরাধীকে পুলিশ অফিসাররা নিয়ে গেছেন তা দেখে রাজ্যবাসী হতবাক। এভাবে একজন দাগী আসামীকে জামাই  আদর করে নিয়ে যাওয়াকে মানুষ ধিক্কার জানাচ্ছে। ৫৬ দিন লুকিয়ে থাকার পর শাজাহানের গ্রেপ্তার নিয়ে পুলিশের একাংশের ভূমিকা নিয়ে সরব হন বাম নেতারা। ডিওয়াইএফআই নেত্রী মীনাক্ষী মুখার্জী বলেন, "সন্দেশখালিতে এখনো পর্যন্ত পুলিশ সাধারণ মানুষকে নানাভাবে ভয় দেখাচ্ছেন। এলাকায় বিরোধী দলের কাউকে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না।" শেখ শাহজাহান, শিবু হাজরা ও উত্তম সর্দারদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে এদিন পুলিশ সুপারের কাছে স্মারকলিপি দেন বাম ছাত্র যুবরা।

জন পড়েছেন

0/Post a Comment/Comments

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন