অবৈধ্য সরকারকে উৎখাত করে বৈধ্য হাসিনা সরকারের হাতে বাংলাদেশকে তুলে দেব, শুভেন্দু

অবৈধ্য সরকারকে উৎখাত করে বৈধ্য হাসিনা সরকারের হাতে বাংলাদেশকে তুলে দেব, শুভেন্দু




ইছামতি সংবাদ, বসিরহাট, ১০ ডিসেম্বর : " অবৈধ্য সরকারকে উৎখাত করে জঙ্গিবাদকে নির্মূল করব তারপর বৈধ প্রধানমন্ত্রী হাসিনার হাতে বাংলাদেশকে তুলে দেব। মানবতার সব সীমা লঙ্ঘিত হচ্ছে বাংলাদেশে। পেট্রাপলের পরে আজ ঘোজাডাঙ্গায় ট্রেলার দেখালাম, বাংলাদেশে মন্দির ভাঙ্গা বন্ধ না করলে, চিনময় প্রভুকে মুক্তি না দিলে, জেহাদীদের আওয়াজ বন্ধ না হলে নতুন বছরে সিনেমা দেখাবো। বলে, চার ঘন্টায় কলকাতা দখল করব। আছে কিছু তোদের? ফাঁসি মারাতে ৪০ টা রাফেল আছে। কাছাকাছির নামটা বললাম। মাত্র দুটো রাফেল যদি উড়িয়ে দেয় ভারত, প্যান্টে বাথরুম করে ফেলবে ওরা। সে দেশে আলু পেঁয়াজ না পাঠালেই চোখের জল নাকের জল এক হয়ে যাবে। লবণ তৈরি হয়, তার আইডি টা দেয় ভারত মাতা। কে এক রিজভী,ই রাজাকারের বাচ্চা, বউয়ের শাড়ি পড়াচ্ছে, ওই রিজভীকে বলি কলকাতায় আপনি এসেছিলেন, হার্টের অপারেশন করিয়েছেন। হাটের মধ্যে একটা রিং পড়িয়েছেন। ওই রিংটা বের করে ফেলতে পারবেন? বউর শাড়িটাকে তো পুড়িয়েছেন" মঙ্গলবার বসিরহাটের ঘোজাডাঙ্গা সীমান্ত থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশ্যে এইভাবে একের পর এক আক্রমণাত্মক ভঙ্গিতে বক্তব্য দেন পশ্চিমবাংলার বিধানসভার বিরোধী দলনেতা তথা বিজেপি বিধায়ক শুভেন্দু অধিকারী।



          মঙ্গলবার ছিল বিশ্ব মানবাধিকার দিবস । গত আগস্ট মাসে হাসিনা সরকারের পতনের পরে সে দেশের অন্তর্বর্তীকালীন ইউনুস সরকারের আমলে বাংলাদেশের সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের উপরে অত্যাচার, মন্দির ভাঙ্গা, ভারতের জাতীয় পতাকার অবমাননার প্রতিবাদে ও ইসকন সন্ন্যাসী চিন্ময় প্রভুর মুক্তির দাবিতে সারা রাজ্য জুড়ে যে আন্দোলন চলছে বিজেপির পক্ষ থেকে তারই অঙ্গ হিসাবে মঙ্গলবার বসিরহাটের ঘোজাডাঙ্গা আন্তর্জাতিক সীমান্ত বন্ধ ও প্রতিবাদ কর্মসূচির ডাক দেওয়া হয়েছিল বঙ্গীয় হিন্দু রক্ষা সমিতির পক্ষ থেকে। ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তের চেকপোস্ট লাগোয়া বিশাল মঞ্চ তৈরি করে মঙ্গলবার এই প্রতিবাদকর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছিল বঙ্গীয়হিন্দু রক্ষা সমিতির বসিরহাট শাখার পক্ষ থেকে। যেখানে প্রধান বক্তা হিসেবে উপস্থিত ছিলেন রাজ্যের বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারী। এদিন দুপুর বারোটা নাগাদ সীমান্তের প্রতিবাদ মঞ্চে হাজির হন তিনি। এছাড়াও মঞ্চে উপস্থিত ছিলেন সংগঠনের বসিরহাট শাখার সভাপতিশ্রীনিবাস দাস, সম্পাদক শৌর্য ব্যানার্জি সহ বসিরহাট সাংগঠনিক জেলার কার্যকর্তা ও সাধু সন্তরা। এদিনের প্রতিবাদ সভামঞ্চে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশ এর অন্তর্বর্তীকালীন ইউনুস সরকারের আমলে সেদেশের সংখ্যালঘু হিন্দু সম্প্রদায়ের উপরে নির্যাতনের পাশাপাশি চিন্ময় প্রভুকে মুক্তির দাবি ও ভারতের জাতীয় পতাকার অবমাননার বিরুদ্ধে একের পর এক আক্রম অনর্থক বক্তব্য দিতে দেখা যায় শুভেন্দু অধিকারীকে। বাংলাদেশের অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে অবৈধ্য সরকার বলে উল্লেখ করে তাকে উৎখাত করারও ডাক দেওয়া হয় এদিনের মঞ্চ থেকে। একই সাথে বাংলাদেশের জঙ্গি কার্যকলাপ নির্মূল করে হাসিনার হাতে বাংলাদেশকে তুলে দেওয়ার কথা ঘোষণা করেন তিনি। গত কয়েকদিন আগেই বনগাঁর পেট্রাপোলে একই ভাবে বিক্ষোভ কর্মসূচিপালিত হয়েছিল বিজেপির পক্ষ থেকে, আর এদিন ঘোজাডাঙ্গা সীমান্তে বাণিজ্য বন্ধ করে প্রতিবাদ কর্মসূচির বিষয়ে বলতে গিয়ে পেট্রাপলের পরে ঘোজাডাঙ্গা শুধু টেলার ছিল বলে উল্লেখ করে আগামী নতুন বছরে বাংলাদেশের জঙ্গিপনা বন্ধ না হলে, হিন্দুদের উপরে নির্যাতন বন্ধ না হলে পুরো সিনেমাটাই দেখানো হবে বলে মন্তব্য করেন শুভেন্দু অধিকারী। এদিনের সভা মঞ্চ থেকে বক্তব্য রাখতে গিয়ে বাংলাদেশের বিএনপি নেতা রিজভীর কথা উল্লেখ করে তার বউয়ের শাড়ি পোড়ানো কে কটাক্ষ করে, তিনি কয়েক দিন আগে কলকাতা থেকে যে হাটের অপারেশন করেছিলেন সেই হাটের ভিতর থেকে রিঙ টা বের করে ফেলতে পারবেন কিনা এই প্রশ্নই ছুড়ে দিয়েছেন বিএনপি নেতার উদ্দেশ্যে। 

         বাংলাদেশের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ কর্মসূচির সভা মঞ্চ থেকেও বাংলাদেশের পাশাপাশি রাজ্য সরকারের কার্যকলাপ নিয়েও প্রশ্ন তোলেন শুভেন্দু অধিকারী। রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রীমমতা ব্যানার্জির হিন্দু দরদী ভাবনার বিষয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, "মুখ্যমন্ত্রী নিজেকে হিন্দু দরদী বলে প্রচার করতে চাইছেন। আমি ওনার কাছে দুটি কাজ করতে বলবো। এক, আপনার মন্ত্রিসভার মন্ত্রী সিদ্দিকুল্লা চৌধুরী যিনি ইউনুস সরকারের কাজে সমর্থন করেছেন, তাকে মন্ত্রিসভা থেকে বের করতে পারবেন? আর দুই, রাজ্যের ২২০০ কিলোমিটার সীমান্তের মধ্যে ৯০০ কিলোমিটারেরও বেশি এলাকা উন্মুক্ত হয়ে পড়ে আছে । সীমানার বেড়া দিতে জমির ব্যবস্থা আপনি করে দিতে পারবেন কি"। এই সুযোগে রাজ্যে আরো একবার এনআরসি চালু করা হবে বলে উল্লেখ করলেন শুভেন্দু অধিকারী।

জন পড়েছেন

0/Post a Comment/Comments

বিজ্ঞাপন

বিজ্ঞাপন