ছাদ টপকে পালাতে গিয়ে পড়ে পা ভেঙ হাসপাতালে ভর্তি বাবার খুনি গুণধর ছেলে
ইছামতি সংবাদ, ৩১ জানুয়ারি : ছেলের হাতে মৃত্যু হল ষাটোর্দ্ধ রঞ্জন মন্ডলের। শুক্রবার রাতে ঘটনাটি ঘটে বসিরহাট সংগ্রামপুর গ্রামে। বাবাকে খুন করে পালাতে গিয়ে ছাদ থেকে পড়ে পা ভেঙে পুলিশের কব্জায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন গুণধর ছেলে রাহুল মন্ডল।
বসিরহাট সংগ্রামপুর শিবহাটি গ্রাম পঞ্চায়েতের সংগ্রামপুর গ্রামের বাসিন্দা রঞ্জন মন্ডল পেশায় ব্যবসায়ী। শুক্রবার রাতে একমাত্র ছেলে রাহুল মন্ডলের হাতে মৃত্যু হয় তার। জানা যায়, রঞ্জন মন্ডলের এক ছেলে ও এক মেয়ে। মেয়ের বিয়ে হয়ে যাওয়ায় বিবাহিত ছেলে ও একমাত্র নাতিকে নিয়ে তাদের সংসার। রঞ্জন মন্ডলের বাড়ির সামনেই জল সাপ্লাইয়ের ব্যবসা থাকলেও কোন কাজ না করে প্রায়ই বাবার কাছে টাকার জন্য দাবি করত ছেলে রাহুল। ছেলের জন্য সংগ্রামপুর রাস্তার পাশে একটি দোকানও করে দিয়েছিলেন তিনি, কিন্তু ব্যবসায় মনোযোগী না হয়ে নেশা করার ফলে প্রায়ই নেশা ছাড়াতে ছেলে রাহুলকে পাঠানো হতো হোমে। বেশ কিছুদিন আগেই হোম থেকে বাড়িতে ফেরায় ছেলের জন্য একটি টোটো রিক্সাও কিনে দেন রঞ্জন বাবু। কিন্তু তারপরেও বাবার কাছে টাকার দাবি কোন ভাবেই কমছিল না। শুক্রবার সন্ধ্যার পর থেকেই টাকা চাওয়া নিয়ে শুরু হয় বাবা ও ছেলের বিবাদ। রাত আনুমানিক দশটা নাগাদ ছেলের চাহিদা মতো টাকা দিতে অস্বীকার করায় প্রথমে ঘরের বাটনা বাটার শীল তুলে বাবার দিকে ছুড়ে মারে রাহুল, কিন্তু লক্ষ্যভ্রষ্ট হওয়ায় তারপরেই নোড়া দিয়ে সজোরে বাবার বুকে আঘাত করায় ঘটনাস্থলেই মৃত্যু হয় তার। এর পরই ঘরে তালা দিয়ে দু-তালার ছাদে গিয়ে গা ঢাকা দেওয়ার চেষ্টা করে রাহুল। অশান্তির খবর পেয়ে বিবাহিত মেয়ে ছুটে এসে পরিস্থিতির বিষয়ে জানায় বসিরহাট থানার পুলিশকে। পুলিশ ঘটনাস্থলে গিয়ে রাহুলকে ধরার চেষ্টা করলে বাড়ির ছাদ থেকে অন্য বাড়ির ছাদ হয়ে পালানোর চেষ্টা করে রাহুল, তখনই পালাতে গিয়ে উপর থেকে পড়ে পায়ে চোট পাওয়ায় পুলিশের হাতে ধরা পড়ে সে। বর্তমানে পুলিশের কব্জায় বসিরহাট জেলা হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বাবার খুনি গুণধর ছেলে। মেয়ের অভিযোগের ভিত্তিতে পুরো ঘটনার তদন্ত শুরু করেছে বসিরহাট থানার পুলিশ।
জন পড়েছেন

Post a Comment